সিলেটে ২২ দিন পর সচল বাস : যাত্রীর চাপ কম

প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০২১ 42 views
শেয়ার করুন

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের কারণে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও বন্ধ ছিল গণপরিবহন। ছোট গাড়ী চলাচল করলেও একেবারে বন্ধ ছিল বাস। সরকারী নির্দেশনায় ২২ দিন পর সিলেটের সচল হলো বাস। তবে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ও যাত্রীর চাপ কম থাকায় আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় আছেন গণপরিবহনের মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। দুরপাল্লার বাস বন্ধ রেখে শুধু আন্তঃজেলা বাস চলাচল করলে পরিবহন শ্রমিকদের রুটি রুজি সম্ভব হবেনা বলে মনে করেন সিলেটের পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এভাবে চলতে থাকলে বাস চলার নির্দেশনা থাকলেও রাস্তায় বাস চালানো যাবেনা বলেও মনে করেন তারা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টানা ২২ দিন পর শুধুমাত্র জেলা শহরের ভেতরে গণপরিবহন চালু হয়েছে। টানা ৩ দফা লকডাউন শেষে অর্ধেক যাত্রী এবং বর্ধিত ভাড়ায় সিলেট চলাচল শুরু করেছে বাস। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নগর বাসসহ সকল বাসেই নেয়া হচ্ছে অর্ধেক যাত্রী। ভাড়া রাখা হচ্ছে ৬০ শতাংশ বেশি। সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কে বাস চলাচল করলেও আন্তঃজেলা সিস্টেমের কারণে চলছেনা হবিগঞ্জী বাস। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হবিগঞ্জমূখী মানুষকে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগের কয়েকটি রুট বাস চলাচল শুরু হয়েছে। ৬০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি ও অর্ধেক যাত্রী বহনের কারণে যাত্রীর উপস্থিতি একেবারে কম। এক বাস পূর্ণ হতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে সিলেট টু সুনামগঞ্জ, সিলেট টু কুলাউড়া ও সিলেট টু বড়লেখা রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। আন্তঃজেলা সিস্টেমের কারণে সিলেট টু মৌলভীবাজার ও সিলেট টু হবিগঞ্জের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদেরকে কয়েক টা গাড়ী বদল করে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে। এদিকে সিলেট টু জকিগঞ্জ, সিলেট টু জাফলং, সিলেট টু জগন্নাথপুর রুটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে বাস। তবে সকল রুটেই যাত্রীর উপস্থিত একেবারে কম রয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দীর্ঘ ২২ দন পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু শুরুর প্রথমদিনেই বড় ধাক্কা খেয়েছে পরিবহন শ্রমিকগন। যাত্রীর উপস্থিতি কম থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হতে পারেন বলে আশংকা করছেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ফলে বাস মালিক চালকদের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে যাত্রী না থাকায় বাস চালিয়েও খুব বেশী লাভবান হতে পারবেন না পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এছাড়া দুরপাল্লার বাস চলাচল না করলে আন্তঃজেলা বাসে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাই। এভাবে বাস চলাচলে পরিবহন শ্রমিকরা আগ্রহ হারাতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রী ওঠানো যাবে না। যানবাহনের শ্রমিকদের মাস্ক সরবরাহ করবে ওই যানের মালিক। যাত্রীবাহী যানের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হবে। অর্থাৎ দুই আসনের সারিতে একজন করে বসবেন। দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। লকডাউনের কারণে এমনিতেই সাধারণ মালিক-শ্রমিকেরা কষ্টে আছেন। এর মধ্যে জেলার ভিতরে বাস চলাচল চালু করায় যাত্রীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। অপরদিকে অনেকেই কার মাইক্রোবাস ভাড়া করে ছুটছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাস মালিক-শ্রমিকেরা।

বৃহস্পতিবার কুমারগাও বাসস্ট্যান্ড ও কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। কুমারগাও বাসস্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জগামী বাসের চালক আবুল হোসেন জানান, সুনামগঞ্জগামী একটি বাস পূর্ণ হতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগেনা। অথচ ঈদের মাত্র কয়দিন আগেও একটি বাস পূর্ণ করতে আমার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এভাবে বাস চলাচল করলে বাস মালিককে কি দিবো আর আমরা কি নিবো। এছাড়াও গাড়ীতে জীবানুনাশক স্প্রে করতে হয়েছে।

এদিকে কদমতলী টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীর উপস্থিতি কম। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার প্রবণতা খুব বেশী দেখা গেছে। যাত্রী সাধারণের পাশাপাশি বাস অনেক চালক-হেলপারদের মুখেও মাস্ক ছিলোনা। হেল্পারকে মাস্ক কোথায় আছে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় মাস্ক পকেটে আছে। গাড়ী ছাড়ার সময় মুখে পরবো।

উল্লেখ্য- করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে ৬ মে থেকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে।