নতুন বিদ্যুৎ আইনে দুর্ঘটনার দায় জনতার কাঁধে!

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০ 97 views
শেয়ার করুন

বৈদ্যুতিক লাইনে দুর্ঘটনার সব দায় দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তির! কেবলমাত্র একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বিদ্যুৎ আইনের প্রকাশিত গেজেটে দায়মুক্তির বিধান সংযোজন করাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

যদিও আইন প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট পাওয়ার সেলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পুরাতন আইনে জনসাধারণকে সচেতন করার বিধানটিও ছিল না। নতুন আইনে সেটি নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু আইনেই যদি দায়মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে কি দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তি আর বিচার চাইতে পারবেন, এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকক্ষেত্রেই বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। শুধু সাধারণ মানুষই নয় বিদ্যুতকর্মীরাও এভাবে মৃত্যুর শিকার হন। আইনের এই ধারার সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনও রকম ক্ষতিপূরণ না দিয়েই পার পেয়ে যায়।

বিদ্যুৎ আইনের গেজেটে বলা হয়েছে, কেন্দ্র বা উপকেন্দ্র পরীক্ষামূলক চালু হওয়ার দিন থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এই বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ মানুষকে খুঁটি বা টাওয়ার অথবা টানা তার স্পর্শ না করার জন্য হুঁশিয়ার করা হবে। এরপরও কেউ যদি এসব স্পর্শ করে আর দুর্ঘটনা ঘটে সেই দায় দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে বহন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবলমাত্র উন্মাদ ছাড়া কেউ বিদ্যুতের তার বা খুঁটি স্পর্শ করে না। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে অনেকের মৃত্যু হয়। কিন্তু আইনের এই ধারার সুযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ এবং সঞ্চালন কোম্পানি দায় এড়াচ্ছে। মৃত ওইসব ব্যক্তিকে কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না।

উল্লেখ্য, ১৯১০ সালের বিদ্যুৎ আইনটি ২০১৮ এবং সব শেষ চলতি বছরও সংশোধন করা হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর সংশোধিত আইনের গেজেটটি প্রকাশ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘শুধু বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় সারা যাবে না। অনেক পুরানো আইন আবার সংশোধন করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টি আগের মতোই রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি দিতেই হবে তবে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা, লিফলেট দিতে হবে। টিভিতেও বিজ্ঞাপন দেওয়া যেতে পারে। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েই দায়সারা হয়, এরপর দুর্ঘটনা ঘটলে মামলা হয়। সরকারি কোম্পানিগুলো সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপায় আর সাধারণ মানুষ নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করে। এইক্ষেত্রে আরও জবাবদিহিতার জায়গা রাখা উচিত।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন অভিযোগের বিরোধিতা করে বলেন, ‘প্রত্যেকটি লাইসেন্সি কোম্পানির প্রথম কাজ হচ্ছে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এরপর কাজের উদ্যোগ নেওয়া। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হবে। আগের আইনে এটা ছিল না। নতুন করে এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নিয়ে এসেছি। এর অর্থ এই নয় যে কাজ শুরুর পর নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখবো না। সেখান থেকে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সেই কোম্পানিকেই নিতেই হবে। তবে গ্রাহকেরও সচেতন হওয়া দরকার।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন