সিলেটে ভ্যাকসিন গ্রহন ও নিবন্ধনের হার নিম্নমুখী

প্রকাশিত: ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১ 42 views
শেয়ার করুন

প্রথম সপ্তাহে করোনার ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন ও গ্রহীতার সংখ্যা কম ছিল। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা আশানুরূপ হারে বেড়ে যায়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে সিলেটে ভ্যাকসিন গ্রহীতার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। কমছে নিবন্ধনও। দিনে দিনে যেখানে বাড়ার কথা, সেখানে ক্রমান্বয়ে কমার চিত্র দেখে হতাশ ও চিন্তিত খোদ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে এখনো কিছুটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। যাঁদের টিকা নিয়ে উৎসাহ ছিল তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিবন্ধন করে টিকা নিয়েছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন টিকার নিবন্ধন করছেন কম। এক্ষেত্রে তাদের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। প্রচার-প্রচারণাও নেই বললেই চলে।

টিকা নিয়ে যাঁদের মধ্যে ভয় রয়েছে তাঁদের অনেকে এখনো পরিস্থিতি আরেকটু দেখতে চাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত যারা টিকে নিয়েছেন তাঁরা মূলত শহরকেন্দ্রিক। গ্রামের লোকজনের কাছে এখনো পৌঁছানো যায়নি। শহরের বস্তিবাসীও টিকার আওতায় আসতে পারেনি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাধ্যমে জনগণকে টিকা নেওয়ার বার্তা দিতে হবে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন।

সারাদেশের মতো সিলেটেও গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনে সিলেট বিভাগে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯৯৪ জন ও নিবন্ধন করেছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৯৭ জন। আর পরের ১২ দিনে অর্থাৎ গতকাল ২ মার্চ পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৭১ হাজার ৬১১ জন ও নিবন্ধন করেছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩৩ জন। এই চিত্র বলে দিচ্ছে ভ্যাকসিন গ্রহীতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসছে।
গত চার/পাঁচ দিনের চিত্র আরো হতাশার। ২৫ ফেব্রুয়ারী সিলেট বিভাগে ভ্যাকসিন নেন ৭,৯৪১ জন, ২৭ ফেব্রুয়ারী তা কমে ৫,৮০৭ জনে, ১ মার্চ ৪,৯৭৫ জন ও ২ মার্চ ৪,৬৬৯ জন। ভ্যাকসিন গ্রহনের এমন চিত্র দেখে চরম হতাশা স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিলেট বিভাগীয় সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক মো: আনিসুর রহমান বলেন, এ নিয়ে আমরা শুধু হতাশ নই, চিন্তিতও। আমরা কাল বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৈঠকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব কোথায় সমস্যা। ইতিমধ্যে চার জেলার সিভিল সার্জনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কেন ভ্যাকসিন গ্রহীতার হার কমছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় প্রান্তিক লেভেলের জনগোষ্ঠি নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বুঝছেন না। বৈঠকে আমরা এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আগামী সপ্তাহ থেকে আশা করছি বাড়বে।