পরিবহন শ্রমিকদের দৌরাত্ম্য- সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন

পাঠকের লেখা পাঠকের লেখা

সুনামগঞ্জের চোখ

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ 103 views
শেয়ার করুন
আমরা দেশপ্রেমিক বটে,অন্যের মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়াতে তৃপ্তি পাই। ফেইসবুকে প্রশংসাবানে জর্জরিত করি কিন্তু নিজের দায়বদ্ধতা থেকে দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পারিনা, যে আমাদের জন্য লড়াই করে।
 
সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট শহরকে আধুনিকতার স্পর্শে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। ফেইসবুকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ভুয়সী প্রশংসা করে সবাই উনাকে ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন, সেলফি তুলছেন মনোমুগ্ধকর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যঘেরা সড়কে।
 
বাংলাদেশের প্রথম সড়কে খুটিবিহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে উনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা নগরবাসীকেও সম্মানিত করেছে। এটা নিসন্দেহে উনাকে অনুপ্রাণিত করে, কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দিচ্ছে, তাই হয়তো একের পর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন উন্নত বিশ্বের আদলে সিলেটকে সাজাতে।
 
আপনার আমার প্রশংসা আর ধন্যবাদ জ্ঞাপন উনার দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে সেটা বলার অবকাশ রাখেনা দিনরাত নগর জুড়ে মেয়রের অবাদ বিচরণ দেখে।
 
সিলেট শহরের সড়কে যানজট একটা মারাত্মক ব্যাধি এটা আমরা সবাই জানি,প্রতিটি পয়েন্টে পয়েন্টে রিক্সা, সিএনজি, মাইক্রো ষ্ট্যাণ্ড যা আমাদের জনজীবন অতিষ্ট করে তোলেছে। পরিবহন শ্রমিকদের দৌরাত্ম্য দেখে মনে হয় রাস্তাঘাট গুলো যেনো তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।
সরকার সড়ক প্রশস্ত করে আর গুণধররা সেই সড়ক দখল করে নৈরাজ্য করবে এটাও যদি মেনে নিতে হয় তাহলে বলবো দেশটা পরিবহন শ্রমিকদের লিখে দেওয়া হওয়া।
 
পরিবহন শ্রমিক আর হকারদের যন্ত্রণায় নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠে গেছে অনেক আগেই, একজন মেয়র সেটা থেকে উত্তোরণের পথ খুঁজছেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সকলেরই উচিৎ স্বপ্নের সিলেটকে সাজাতে উনার পাশে থাকা।
 
ব্যক্তি আরিফুল হকের সাথে বিরোধ থাকতেই পারে তবে সিলেটের প্রশ্নে উনি যদি ভালো কিছু করেন উনাকে সমর্থন করা মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবেনা।
 
একজন আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত অনেক কিছুই পছন্দ নয় কিন্তু আধুনিক সিলেট গড়তে উনার নিরলস প্রচেষ্টা আর অক্লান্ত পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানাতে কার্পন্য করে হীনমন্যতার পরিচয় দিবোনা।
আসুন ফেইসবুকে প্রশংসায় না ভাসিয়ে সাধারণ মানুষজনও উনার পাশে দাঁড়াই, দেখবেন সকল অপশক্তি, নৈরাজ্য, অবৈধ দখলদারী নিপতিত হবে আস্তাকুঁড়ে।
 
সময় এসেছে সিলেট শহরকে যানজট মুক্ত করতে, অবৈধ হকার আর অবৈধ ষ্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে মেয়রকে সহযোগিতা করা। এই সহযোগিতা কোনো ব্যক্তি আরিফুল হক চৌধুরীকে নয়,সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সহযোগিতা, সিলেট শহরের সৌন্দর্য বিকশিত করতে পাশে থাকা। ভোটের সময় ভালো না লাগলে আরিফুল হক চৌধুরীকে ভোট দিবেন না,কিন্তু উন্নয়ন অগ্রগতির স্বার্থে আপাতত মানুষটিকে সাহায্যতো করাই যায়।
 
উনি ভুল কিছু করলে আমরাও আবার বিরোধিতা করবো, ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে শুধু মেয়র কেনো কোনো রাজামহারাজা টিকতে পারেন না। একটা পক্ষ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধীতা করছে, একটা পক্ষ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফায়েদা নিতে শ্রমিকদের উস্কে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ হিসেবে বিবেকের চোখ দিয়ে দেখে ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করা নৈতিক দায়িত্ব।
 
যারা বলে গরীবের পেটে লাথি মারা হচ্ছে তাদের বলবো মিথ্যে আবেগ দিয়ে নয় অদুর ভবিষৎ কি হবে সে দিকে লক্ষ্য রাখুন,এখন আর কেউ না খেয়ে মরেনা। বিকল্প কিছু অবশ্যই আছে, অবৈধ ষ্ট্যাণ্ড না বসিয়েও গাড়ি চালানো সম্ভব। আপনি পরিবহন শ্রমিক হলেও এই সিলেটেরই একজন আপনার শহরকে সাজাতে আপনার কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই,কেনো অবৈধভাবে জনগণের অধিকার হরণ করবেন,ফুটপাত সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য।
 
আপনি কত মানুষের অধিকার হরণ করছেন কখনো কী ভেবেছেন?
আপনারা কিছু হলেই অবরোধ ধর্মঘট ডাক দেন মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে কিন্তু এতো বছরেও বৈধভাবে ষ্ট্যাণ্ড বসাতে কোনো উদ্যোগ নিজেরাও নিলেনা না,সরকারকেও সঠিক প্রস্তাবনা দিয়ে দাবী আদায় করতে পারছেন না।
 
আপনাদের শ্রমিক নেতারা কি করে আপনাদের জন্য,আপনাদের মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়া ছাড়া। কখনো কি ভেবেছেন আপনারা যে টাকাটাকে শ্রমিক কল্যাণে দেন সেই টাকা কোথায় যায়, কি কাজে লাগে।
ষ্ট্যাণ্ডের সমস্যা আপনাদের দীর্ঘদিনের অথচ এর কোনো সুরাহা আপনাদের নেতারা করতে পারেন না। বছরের পর বছর যে টাকা আপনারা কল্যাণের জন্য দেন সেটা দিয়ে নিজস্ত জায়গায় নিজেদের ষ্টান্ড করতে পারতেন,শুধু পারছেন না কিছু লোকের দাবার চাল হয়ে এদিক থেকে অদিক ঘুরছেন বলে। আর পারছেন না সঠিক পরিকল্পনার অভাবে।
 
আপনারাও আমাদের ভাই আমরা সাধারণ মানুষ কেনো আপনাদের উপর বিরক্ত হবো,কেনো আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ হবেন।
সমোঝোতায়ই সমাধান করে দিতে পারে।
 
শুধু এইটুকু যদি মনে থাকে সিলেট আমাদের শহর। এই শহরের শান্তিশৃঙ্খলা, উন্নয়ন সবকিছু রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। আসুন সিলেটকে ভালোবাসি,দেশকে ভালোবাসি।
 
____________________________
সাংবাদিক
দুবাই প্রবাসী