বাংলাদেশের সম্পদ ডাক্তার নজমুস সাকিব

পাঠকের লেখা পাঠকের লেখা

সুনামগঞ্জের চোখ

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ 59 views
শেয়ার করুন
মানুষ তাঁর কর্মগুণেই সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌছে বা আরোহণ করে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। যেসব মানুষ দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে কাজ ও জন্মকে স্মরণীয় করে রাখতে চান : তাঁদের মধ্যে প্রচার বিমুখ এক মানবিক চিকিৎসক নজমুস সাকিব। সমাজসেবায়, স্বাস্থ্যসেবায়, এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে যার মন-মানসিকতা উদার। ভাটিবাংলা খ্যাত জনপদ ও হাওর অঞ্চলের মানুষের প্রিয়জন, মেহনতি মানুষের একান্ত আপনজন ডা. নজমুস সাকিব।
 
করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) যখন সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, স্তব্ধ করে দিয়েছে দৈনন্দিন জীবনের সকল কর্মকাণ্ড, চোখের সামনে শত শত লাশ, কভিড-১৯ রুগীর পাশে যখন আসছিল না কোন আত্নীয় স্বজন, ঠিক তখন কভিড-১৯ খ্যাত হাসপাতাল (কভিড-১৯) নামে পরিচিত সিলেট সদর ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিরলস ভাবে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডা. নজমুস সাকিব।
 
ডাক্তারি পেশায় মানুষকে অবিরত সেবা দেয়া যার পেশা ও নেশা। গরীব দুঃখি, অসহায়, ও নিম্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য দু’হাত দিয়ে যিনি দান করছেন। সিলেটের ডাক্তারদের ভিজিট চার্জের তুলনায় যিনি অনেক কম রাখেন। যার অফিসে সবসময় রোগীদের ভীর থাকে। যার প্রতিটি চিন্তা চেতনা দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তিনি হলেন নেফ্রোলজি বিভাগের কডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নজমুস সাকিব (এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি)।
 
একদিন স্যারের একজন রোগীর সাথে আমার কথা হলে তিনি বলেন, ‘ আমি যতো রোগি নিয়ে স্যারের কাছে এসেছি আমি সফল হয়েছি। তাই স্যারের কাছে আমার সবসময় আসা হয়। ডা. নজমুস সাকিব একজন অসাধারণ মানুষ। খুব নম্র ভদ্র, অমায়িক ব্যবহার ও আন্তরিক মনের মানুষ। তাঁর মতো ডাক্তার এ সমাজে বিরল। ‘
 
এমনও ঘটনা আছে গরীব রোগিকে দেখে ১০০-৫০০ টাকা পকেটে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে ভাটি অঞ্চলের কৃষকের ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল এটা সবার মনে আছে, ঠিক তখন প্রায় দশ লক্ষ টাকা নিজের এলাকায় কৃষকদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন। শুধু এটা নয় যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় হাওর অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় সহোযোগিতা, গরীব মেয়েদের বিয়েতে সহোযোগিতা, অসুস্থ রোগিদের সহোযোগিতা, গরীব অসহাদের ঘরবাড়ি নির্মাণ সহ শতশত ভালো কাজের অবদান আছে ডাক্তার নজমুস সাকিবের।
 
ডা. নজমুস সাকিব একজন সহজ সরল, অমায়িক ব্যবহার, পরোপকারী, পরহেজগার ব্যক্তি। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী, সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসায় সহযোগিতায় যার অবদান অতুলনীয়। নজমুস সাকিব বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। আমাদের এলাকা একজন তরুণ ছেলের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। তাকে সুস্থ করে তুলতে টাকার প্রয়োজন প্রায় ১২ লক্ষ টাকার। এলাকার তরুণরা স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি যে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেই পরামর্শের আলোকে তরুণরা কাজ শুরু করেন এবং আল্লাহর রহমতে ব্যবস্থা হয়ে যার। সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল নজমুস সাকিব স্যারের। পরিশেষে ছেলেটি সুস্থ হয়ে উঠে । আলহামদুলিল্লাহ সে এখন অনেক ভালো। নজমুস সাকিব নিরবে এলাকার গরীব দুঃখি মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর মাঝে নেই কোন অহংকার, নেই কোন হিংস্বা বিদ্ধেষ। এলাকার অনেক গুণী মানুষ ডা. নজমুস সাকিবকে ‘মাটির মানুষ’ নামে ডাকতে শুনেছি। নজমুস সাকিব দেখতে যেমন অনেক সুন্দর ও স্মার্ট ঠিক তেমনি কাজেও অনেক দক্ষ ও স্মার্ট। তিনি রোটিন অনুযায়ী কাজ করেন।
 
নজমুস সাকিব চৌধুরী পরিবারের সন্তান। সাকিব চৌধুরী পরিবাররে সন্তান হলেও তিনি কখনো তাঁর নামের সাথে চৌধুরী ব্যবহার করেননি। সাকিব বাংলাদেশের একজন নামকরা ডাক্তার। অনেক গুণে গুণান্বিত। যার কারণে নজমুস সাকিব সম্পর্কে অনেকে অনেক মন্তব্য করে থাকেন। যেমন- নজমুস সাকিব এ পর্যন্ত যা পেয়েছেন বা অর্জন করেছেন তা মহান আল্লাহ প্রদত্ত বা লোকের ভাষায় ‘গড গিফটেড’।
 
আবার অনেকে বলেন, ‘নজমুস সাকিব পপুলার কারণ তিনি যা পেয়ছেন তা ঐতিহ্যগত। ‘ কেউ কেউ বলেন, ‘নজমুস সাকিব এ পর্যন্ত যা পেয়েছেন বা অর্জন করেছেন এটা তাঁর একান্তই পরিশ্রমের ফসল।
এখানে প্রথম আলোচনার বিষয় হলো যে, নজমুস সাকিব একজন পরহেজগার ও আল্লাওয়ালা মানুষ। তাঁকে দেখা যায় নামাজের সময় নামাজ পড়তে। তিনি যতই রোগি দেখেন না কেন নামাজের সময় হলে মসজিদে চলে যাবেন নতুবা বাসায় নামাজ পড়বেন। যার কারণে রোগিরা অন্যন্য ডাকতারের চেয়ে নজমুস সাকিবের প্রতি একটু বিশ্বাস বেশিই রাখে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন, শান্তশিষ্ট, নম্র ভদ্র, নামাজি, ছাত্র হিসেবে ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী। ছোটবড় সবার সাথে ছিলো অনেক ভালো ব্যবহার। সবকিছু বিবেচনায় এনে প্রথম শ্রেণির নাগরিক নজমুস সাকিবের অর্জন ‘গড গিফটেট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
 
দ্বিতীয়ত, নজমুস সাকিবের নানা এবং মামারা ছিলেন অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি। নানা নজমুল হোসেন চৌধুরী ছিলেন আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শত বছরের সাহিত্যের বিদ্যাপীঠ ‘কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস), সিলেট এর দুই দুই বারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি। এছাড়া নজমুল হোসেনের বড়ছেলে এবং নজমুস সাকিবের বড় মামা মোস্তাক হোসেন চৌধুরীও ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি, ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাধ্যক্ষ, একজন বিশেষজ্ঞ আইনজিবি। তাছাড়া, ছোটমামা যেহীন আহমদ চৌধুরী ছিলেন ‘ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ’ সংক্ষেপে এফআইভিডিবির এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক, কিডনি ফাউন্ডেশন, সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি। তাছাড়া আরো অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের দায়ীত্ব পালন করেছেন। এদিকে নজমুস সাকিবের দুই বোন। বড় বোনের জামাই কর্ণেল ফাহিম চৌধুরী ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক। যার কারণে নজমুস সাকিব তাদের কাছ থেকে উৎসাহ, প্রেরণা, উদ্দিপনা ও সব ধরণের সহযোগিতা পেয়েছেন তাই তিনি সহজেই নিজেকে সাজাতে পেরেছেন। এই দৃষ্টকোন থেকে নজমুস সাকিব ডাক্তার হওয়াটা ঐতিহ্যগত।
 
তৃতীয়ত, নজমুস সাকিব ছোটবেলা থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, রাত্রীর পর রাত্রি জেগে পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনায় কোন ধরণের ফাঁকিবাজি করেননি যার কারণেই তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে কেডার হয়েছেন এবং এখন বাংলাদেশের একজন নাম করা কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। বর্তমানে তিনি সিলেট সদর ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তাছাড়া তিনি সিলেট শহরের নামকরা বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরা, নুরজাহান হাসপাতাল ও মেডি এইডে নিয়মিত নিয়মিত রোগি দেখছেন।
 
তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, সমাজপ্রেম, সৃষ্টিপ্রেম, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানা এবং জনসাধারণকে জানানোই আমার উদ্দেশ্য। ভালো কাজ মানুষের সাথে সেয়ার করলে, মানুষ এই কাজগুলো করার উৎসাহ পায়। মনের মাঝে প্রেরণা জাগ্রত হয়। আমাদের সমাজে অনেক গুণীজন রয়েছেন বা ছিলেন যারা সারা জীবন দেশ সমাজ এবং মানুষকে শুধু দিয়ে গেছেন কিন্তু তাঁরা বিনিময়ে কিছু পাননি বা চাননি। নিজেদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিঃশেষ বিলিয়ে দেবার পর চাননি নূন্যতম স্বীকৃতি কিংবা সমাজসেবার কোনো প্রতিদান নশ্বর এই পৃথিবীতে।
 
মানুষের জন্ম যেমন সত্য তেমনি ধ্রুব সত্য হচ্ছে আকাঙ্ক্ষার অসীম তৃষ্ণা; জ্ঞানের রাজ্য, ধ্যানের রাজ্যে মানুষের কর্মস্পৃহা আমাদের সমাজকে অনেক উচ্ছতায় নিয়ে যায়। আমাদের সামাজিক জীবনে, অর্থনীতিক জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবন ব্যবস্থায়ও বিরাট পরিবর্ত, সেই পরিবর্তনের প্রাগ্রসর মানুষের মিছিলে যিনি সবসময় পাশে থাকেন তিনি হলেন প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. নজমুস সাকিব।
 
নজমুস সাকিব যেমন মনে তেমন জনে। যেমন ধনে তেমন পূণ্যে। যেমন গুণে তেমন রুপে। যেমন জ্ঞানে তেমন ধ্যানে। যেমন যত্নে তেমন রত্নে। হাসিখুসি মুখ নিয়ে সবার সাথে কথা বলতে দেখেছি। একজন আশাবাদী মানুষ তিনি। ব্যবহারে খুব আন্তরিক। এই মানুষটারে সবাই বড্ড ভালোবাসে।
 
ডা. নজমুস সাকিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের বছর তথা ১৯৭১ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৬ নং পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ডে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেণ। নজমুস সাকিবের পিতা মৃত সাইকুল ইসলাম চৌধুরী ও মাতা দূর আফসান চৌধুরী। নজমুস সাকিব বিবাহিত জীবনে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে সোনার সংসার।
 
পরিশেষে বলতে চাই, তিনি নিজের কর্মগুণেই মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন যুগযুগান্তর। ব্যক্তির ভালো কাজের জন্য যেভাবে মানুষ উপকৃত হয়, সমাজ সুন্দর হয়, দেশ এগিয়ে যায় ঠিক তেমনি ব্যক্তির খারাফ কাজের জন্যও মানুষ মানুষের মধ্যে হিংস্বা বাড়ে, কলহ বাড়ে, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, দেশ পিছিয়ে যায়। তাই যারা ভালো কাজ করে তাদের ভালো কাজগুলো বা ভালো গুণগুলো তুলে ধরলে ব্যক্তি আরো ভালো কাজ করার প্রেরণা ও শক্তি পায়। একজন প্রচার বিমুখ মানবিক চিকিৎসক ডা. নজমুস সাকিব বাংলাদেশের সম্পদ।
 
____________________
কবি ও সাংবাদিক